আগামীকাল শুক্রবার ঘোষিত হতে যাচ্ছে এ বছরে শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম। দেশী বিদেশী অনেক গণমাধ্যমে বেশ কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলছে যে এবার নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ও কমিটির সদস্যদের মনোনয়নের তালিকায় এক নাম্বারে রয়েছে শেখ হাসিনার নাম, দুইয়ে আছে জার্মানীর চ্যান্সেলর এ্যাংগেলা মার্কেল।
মূলত, শরনার্থী আশ্রয় ও সমস্যা সমাধানে দু’জনই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেই এ পুরস্কারের জন্য আলোচিত হচ্ছেন তারা। তবে বাংলাদেশের মতো ছোট ও দরিদ্র রাষ্ট্র বিশাল সংখ্যক শরনার্থীদের আশ্রয় ও সংকট মোকাবেলায় মানবিক ভূমিকা রাখায় শেখ হাসিনার নামই সবার আগে স্থান পাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ও বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।
এমন অবস্থায় নোবেল ঘোষণার অন্তিমক্ষনে বিএনপির প্রথম সারির কয়েকজন নেতা বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডােল ব্লেকেন এর সঙ্গে দেখা করেছেন শেখ হাসিনাকে বিবেচনায় না রাখতে , যার তথ্য-প্রমাণ রয়েছে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে।
আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর নোবেল বিজয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এমন কথা মাথায় রেখেই তা বানচাল করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে বি এন পি।
গোয়েন্দা সংস্থার একটি বিস্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছেন যে, গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে নয়টার দিকে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের গুলশান ১১১ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাসায় প্রবেশ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমান, ড. আব্দুল মঈন খান, খন্দকার মোশারফ হোসেন, আইনজীবি সমিতির নেতা জয়নুল আবেদীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুণ সহ ৭সদস্যের একটি দল। তারা সেখানে রাত পৌনে এগারোটা পর্যন্ত অবস্থান করেন। রাষ্টদূতের বাসভবনের নিরাপত্তারক্ষী নাম না প্রকাশ করার শর্তে এ তথ্য জানান।
গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা যায়, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানের ফোন ট্র্যাকিং করে কথোপকথনে পাওয়া যায় যে, তিনি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সেখানকার বিএনপি দুই ব্যবসায়ী নেতা এই পরিকল্পনায় অর্থ বিনিয়োগ করছেন। তারেক রহামানের সঙ্গে যাদের ঘনিষ্ট যোগাযোগ রয়েছে, তারা জানিয়েছে যে ইতিমধ্যে তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপ করে তারা লবিং এর জন্য বিশাল অংকের টাকা ঘুষ দিয়েছেন নোবেল কমিটির দুই সদস্যকে। এছাড়া ড. মুহম্মদ ইউনুসের সঙ্গেও তারা যোগাযোগ করেছেন বলে অন্য একটি সূত্র থেকে গোয়েন্দা সংস্থা তথ্যটি পেয়েছেন। নরওয়ের সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী টেলিকম কোম্পানী নরটেলের এদেশীয় কোম্পানী গ্রামীণফোনের অংশীদার ড.ইউনুস এক্ষেত্রে তার ব্যবসায়ী প্রভাব কাজে লাগানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। একই দেশ থেকে বারবার নোবেল শান্তি পুরস্কার না দিতে কয়েকজন নোবেল লরেট ও নরওয়ের তিনজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য নরওয়েজিয়ান পালার্মেন্ট ‘নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি’র মনোনয়ন দেন। তারাই আগামীকাল ৬ অক্টোবর বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পদক নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করবেন। এ কথা মাথায় রেখেই ওই তিন প্রভাবশালী মন্ত্রী নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি নিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন বলে তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থা।
বুধবার বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী ঘটা করে শেখ হাসিনার নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির আগাম গুজব নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ তোলেন যে নোবেল পাওয়ার জন্য শেখ হাসিনার অর্থের লগ্নি করে লবিস্ট নিয়োগ করেছেন। দেশে এতো ইস্যু থাকতে পুরস্কার ঘোষনার দুদিন আগে নোবেল পুরস্কার নিয়ে আওয়ামীলীগের মধ্যে তেমন কোনো তোড়জোড় না থাকলেও বিএনপির এমন সংবাদ সম্মেলন সন্দেহ সৃষ্টি করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মূলত এরপর গোয়েন্দা সংস্থা তাদের নজরদারি বাড়ালে বুধবার রাত সাড়ে নয়টায় বিএনপি নেতাদের রাষ্ট্রদূতের বাসায় প্রবেশের বিষয়টি নজরে আসে।
এমন অভিযোগের ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে একটি নির্ভরশীল সূত্র জানায়, বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন সম্পর্কে অবহিত করতেই দু’তিনজন নেতা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সেদিন দেখা করতে যান।



0 মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ…আপনার মতামত প্রদান করার জন্য।