সারা বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় উন্মাদনাকে কাজে লাগিয়ে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ, অন্য দেশে আগ্রাসী হস্তক্ষেপ, ঔপনিবেশিক শাষণ ও খনিজ সম্পদ লুন্ঠণের যে হিংস্র বর্বরতা শুরু হয়েছে গত চার দশক ধরে তা হতে মুক্ত হতে শুধু বাংলাদেশ নয়, সেপ্টেম্বর ২০১৭তে সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের মনে আগ্রহ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ পেয়েছে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কারটির মাহাত্ম্য কি ফিরে আসবে, একজন সঠিক মানুষকে পুরষ্কারটি প্রদানের মাধ্যমে, যার দিক নির্দেশনায় সারা বিশ্ব চলতে পারে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুষম উন্নয়নের পথে-এমন প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়ায়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসার জেষ্ঠ্য সন্তান ১৯৪৭ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার বাইগার নদী তীরবর্তী টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্ম নেয়া ‘হাসু’ ২০১৭ সালের ৬ই অক্টোবর নরওয়ের অসলো শহর হতে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় ২০১৭ সালের জন্য ‘শান্তিতে নোবেল’ পুরষ্কার এর জন্য চুড়ান্তভাবে মনোনীত হতে যাচ্ছেন, এমনই একটি প্রত্যাশায় বিশ্বের গণমাধ্যমগুলি গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারন অধিবেশন শেষে কোথায় যাচ্ছেন, কি করছেন, ০৬.১০.২০১৭ বিকাল ৩টায় কোথায় থাকতে পারেন তা নিশ্চিত হবার জন্য সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছে। অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকরা সবার আগে ২০১৭ সালের শান্তিতে নোবেল পুরষ্কারপ্রাপ্ত মহান ব্যক্তিটির সাক্ষাৎকার গ্রহণের কৃতিত্বটি অর্জন করতে চান। কৌতুহল, আগ্রহ, উৎকন্ঠা বিশ্বের প্রকৃত বিবেকবান মানুষের মতো সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের মনেও; প্রিয় পাঠক আসুন জানার চেষ্টা করি শেখ হাসিনার নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্তির ভিত্তি ও সম্ভাবনাগুলি।
(১) শেখ হাসিনার নাম মোট ৩বার শান্তিতে নোবেল পুরষ্কারের জন্য প্রস্তাব হয়েছে:
শেখ হাসিনা ইতপূর্বেও শান্তিতে নোবেল পুরষ্কারের জন্য প্রাথমিক প্রস্তাব হতে চুড়ান্ত বাছাইয়ের সংক্ষিপ্ত তালিকায় দুইবার চলে এসেছিলেন বলে জানা যায়।
প্রথমবার ২০০৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির মাধ্যমে ভারতের সেভেন সিষ্টার্স ও বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর ভুমিকা রাখার জন্য।
দ্বিতীয়বার , ২০১২ সালে ‘জনগণের ক্ষমতায়ন ও শান্তির দর্শন’ জাতিসংঘে উপস্থাপন করে, যা বিশ্বের সকল দেশের রাষ্ট্রনায়কেরা গ্রহণ করেন এবং জঙ্গিবাদ ও আধিপত্যবাদ দমনে কৌশলী ভুমিকা রাখার মাধ্যমে উপমহাদেশে জঙ্গিবাদকে রুখে দেয়ার জন্য বিশ্বের সকলের কাছে প্রশংষিত হন।
তৃতীয়বার শেখ হাসিনার নামটি সহ ১লা ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখ পর্যন্ত্য মোট ৩১৮টি নাম ২০১৭ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের মনোনয়নের জন্য জমা পড়েছে।
২১৫ জন ব্যক্তি আর ১০৩ প্রতিষ্ঠান হতে বাছাই হতে হতে ১০ জন, ৫জন, সর্বশেষ এই তালিকা এখন সংক্ষিপ্ত হয়ে দুইজন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানে এসে মূল বাছাই কমিটির রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা যায়।
২০১৬-১৭তে যারা শেখ হাসিনার নামটি ২০১৭ এর নোবেল শান্তি পুরষ্কারের জন্য প্রস্তাব করেছেন, তাদের মূল যুক্তি দুটি: (১.ক) জঙ্গিবাদ দমনে জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরেও দমন-পীড়ন নয়, মানবিক ও আইনানূগ আচরণের মাধ্যমে জঙ্গিদের প্রতিহিংসাপরায়ন না করে জঙ্গিবাদ ছেড়ে দেয়ার প্রচেষ্টায় উদ্বুদ্ধকরণ; (১.খ) ২০১৬ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণের সর্ব্বোচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপন।
২১৫ জন ব্যক্তি আর ১০৩ প্রতিষ্ঠান হতে বাছাই হতে হতে ১০ জন, ৫জন, সর্বশেষ এই তালিকা এখন সংক্ষিপ্ত হয়ে দুইজন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানে এসে মূল বাছাই কমিটির রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা যায়।
২০১৬-১৭তে যারা শেখ হাসিনার নামটি ২০১৭ এর নোবেল শান্তি পুরষ্কারের জন্য প্রস্তাব করেছেন, তাদের মূল যুক্তি দুটি: (১.ক) জঙ্গিবাদ দমনে জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরেও দমন-পীড়ন নয়, মানবিক ও আইনানূগ আচরণের মাধ্যমে জঙ্গিদের প্রতিহিংসাপরায়ন না করে জঙ্গিবাদ ছেড়ে দেয়ার প্রচেষ্টায় উদ্বুদ্ধকরণ; (১.খ) ২০১৬ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণের সর্ব্বোচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপন।
তাঁদের যুক্তিগুলির ব্যাখ্যা হলো: বাংলাদেশের জাতির পিতাকে হত্যার পর তার গড়ে তোলা রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বলাভের পর দীর্ঘ ৩৭বছর অহিংসা ও শান্তির পথ ধরেই সামরিক শাষণ, গণতান্ত্রিক শাষণের নামে বিশ্বব্যাঙ্কের পরামর্শে পরিচালিত ঔপনিবেশিক শাষনের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলন করে বাংলাদেশে আইনানূগভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে শাষণ প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশের সমগ্র প্রশাষনকে বিশ্বব্যাঙ্ক সহ বিদেশীদের প্রভাবমুক্তকরণ ও সঠিক দিক-নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করা, সামাজিক সুশাষণ প্রতিষ্ঠার রাস্তায় তুলে আনা, সারা বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের উত্থানের মুখে বাংলাদেশকে যখন জঙ্গিবাদের চারনভূমি তৈরির প্রচেষ্টাটি প্রায় নিশ্চিত হতে যাচ্ছিলো, তখন ঢালাওভাবে জঙ্গিবাদের সমর্থকদের চরম দমন-পীড়নের মাধ্যমে নি:শ্বেস না করেও আত্মঘাতী হবার উন্মাদনায় উন্মত্ত সশস্ত্র ও জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের সর্বান্তকরণ প্রচেষ্টার দৃশ্যমান নীতি অনুসরণ করে সারা বিশ্বের নজর কাড়েন শেখ হাসিনা।
বিশেষ করে-
(১.ক.১) ২০১৬ সালে গুলশান জঙ্গি হামলার মাধ্যমে বিদেশীদের জিম্মি করে (যদিও ওরা বলেছিলো জিম্মি আছে, কিন্তু খুন করে ফেলেছিলো সাথে সাথেই) বন্দী থাকা সকল জঙ্গিনেতাকে মুক্ত করে বাংলাদেশে তালেবান স্টাইলে আফগান বিপ্লব করে ফেলে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতা দখলের ক্ষেত্র তৈরির অপচেষ্টা করা হয়েছিলো, তখন ধৈর্য্য ধরে রাতেই তাৎক্ষনিক অভিযান না চালিয়ে আত্মসমর্পণ করানোর চেষ্টা।
(১.ক.২) গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার পরবর্তীতেও প্রযুক্তি ও জনবল ব্যবহার করে নিখুঁৎ অনুসন্ধানের মাধ্যমে জঙ্গি আস্তানাসমূহ চিহ্নিত করে প্রতিটি জঙ্গি আস্তানা গুড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে শত শত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্য রোদ-বৃষ্টিতে ঘন্টার ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে আত্মসমর্পণ করানোর চেষ্টা, যেসব ক্ষেত্রে জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ করেছে, তাদের প্রতি আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করার কৌশলটি সারা বিশ্বের বিবেকমান মানুষের কাছে ‘রোল মডেল’ হিসেবে গণ্য হয়।
(১.ক.৩) যেসব জঙ্গিরা আত্মঘাতী হয়েছে, তাদের পরিচয় সনাক্তকরণের চেষ্টার মাধ্যমে তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দৃশ্যমান উদ্যোগ, পরিবার মরদেহ নিয়ে সৎকার করতে চাইলে তাদের সহায়তা; (১.ক.৪) আত্মঘাতী জঙ্গিদের মরদেহ পরিবার নিতে অস্বীকৃতি জানালে যথাযথ মর্যাদায় সমাহিত করা।
(১.ক.৫) আত্মঘাতী জঙ্গিদের পরিচয় সনাক্তকরণের চেষ্টায় দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর নিজস্ব প্রচেষ্টার বাইরেও দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমের সহায়তায় প্রচার করা।
(১.ক.৬) জঙ্গিবাদ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে উদ্বুদ্ধ করতে পূণর্বাসনের ঘোষণা, উদ্যোগ গ্রহণ এবং সীমিত পরিসরে হলেও দৃশ্যমান ও আনুষ্ঠানিকভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান।
(১.ক.৭) কোন জঙ্গির পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনকে অহেতুক হয়রানি না করা-এসব শুভ ও মানবিক উদ্যোগগুলি বিশ্বের প্রকৃত বিবেকমান মানুষের মনে নাড়া দেয়।
একইসঙ্গে ২০১৬ সালে বর্বর মায়ানমারের সামরিক জান্তার বিতাড়নের পর নাফ নদী অতিক্রম করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থলভাগে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক আচরণ। উল্লেখ্য যে, মায়ানমারে এখন নামেমাত্র গণতন্ত্র থাকলেও কার্যত: সামরিক শাষণ বলবৎ, সাংবিধানিকভাবে দেশটির পার্লামেন্টের ২৫% আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত, মায়ানমার রাষ্ট্রের জাতির পিতার কন্যা, রোহিঙ্গা সহ মায়ানমারের দুই শতাধিক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ৬৪ বছরের বিবাদ হতে দেশটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় সামনে ধরে রাখা ও দীর্ঘ আন্দোলন-লড়াই-সংগ্রামের ফসল অং সান সু চি ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেয়েও কার্যত এখনো সেনাবহিনীর খপ্পরে পড়ে আছেন বা অসহায় হয়ে আছেন বলে মনে করা হয়।
(১.ক.২) গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার পরবর্তীতেও প্রযুক্তি ও জনবল ব্যবহার করে নিখুঁৎ অনুসন্ধানের মাধ্যমে জঙ্গি আস্তানাসমূহ চিহ্নিত করে প্রতিটি জঙ্গি আস্তানা গুড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে শত শত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্য রোদ-বৃষ্টিতে ঘন্টার ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে আত্মসমর্পণ করানোর চেষ্টা, যেসব ক্ষেত্রে জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ করেছে, তাদের প্রতি আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করার কৌশলটি সারা বিশ্বের বিবেকমান মানুষের কাছে ‘রোল মডেল’ হিসেবে গণ্য হয়।
(১.ক.৩) যেসব জঙ্গিরা আত্মঘাতী হয়েছে, তাদের পরিচয় সনাক্তকরণের চেষ্টার মাধ্যমে তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দৃশ্যমান উদ্যোগ, পরিবার মরদেহ নিয়ে সৎকার করতে চাইলে তাদের সহায়তা; (১.ক.৪) আত্মঘাতী জঙ্গিদের মরদেহ পরিবার নিতে অস্বীকৃতি জানালে যথাযথ মর্যাদায় সমাহিত করা।
(১.ক.৫) আত্মঘাতী জঙ্গিদের পরিচয় সনাক্তকরণের চেষ্টায় দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর নিজস্ব প্রচেষ্টার বাইরেও দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমের সহায়তায় প্রচার করা।
(১.ক.৬) জঙ্গিবাদ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে উদ্বুদ্ধ করতে পূণর্বাসনের ঘোষণা, উদ্যোগ গ্রহণ এবং সীমিত পরিসরে হলেও দৃশ্যমান ও আনুষ্ঠানিকভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান।
(১.ক.৭) কোন জঙ্গির পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনকে অহেতুক হয়রানি না করা-এসব শুভ ও মানবিক উদ্যোগগুলি বিশ্বের প্রকৃত বিবেকমান মানুষের মনে নাড়া দেয়।
একইসঙ্গে ২০১৬ সালে বর্বর মায়ানমারের সামরিক জান্তার বিতাড়নের পর নাফ নদী অতিক্রম করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থলভাগে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক আচরণ। উল্লেখ্য যে, মায়ানমারে এখন নামেমাত্র গণতন্ত্র থাকলেও কার্যত: সামরিক শাষণ বলবৎ, সাংবিধানিকভাবে দেশটির পার্লামেন্টের ২৫% আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত, মায়ানমার রাষ্ট্রের জাতির পিতার কন্যা, রোহিঙ্গা সহ মায়ানমারের দুই শতাধিক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ৬৪ বছরের বিবাদ হতে দেশটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় সামনে ধরে রাখা ও দীর্ঘ আন্দোলন-লড়াই-সংগ্রামের ফসল অং সান সু চি ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেয়েও কার্যত এখনো সেনাবহিনীর খপ্পরে পড়ে আছেন বা অসহায় হয়ে আছেন বলে মনে করা হয়।
যখন সারা বিশ্বব্যাপী ‘শরণার্থী ঢুকতে দেবো না’ নীতি চলছিলো তখন-
(১.খ.১) ২০১৬ সালে বাংলাদেশে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ি ৮৭,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয়, খাবার, চিকিৎসা পায়।
(১.খ.২) বাংলাদেশের জলসীমায় রোহিঙ্গাবাহী ট্রলারগুলিতে পর্যাপ্ত জ্বালানী, খাবার, জরুরী ঔষধ সরবরাহ করা হয়, যাতে তারা পরিস্থিতি অনূকুলে না আসা পর্যন্ত্য ট্রলারে অবস্থান করতে পারে, এদের কেউ কেউ পরে মায়ানমারে ফিরে গেছে, কেউ কেউ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডে ঢুকেছে, কেউ কেউ পরে বাংলাদেশেই ঢুকেছে।
(১.গ) মায়ানমারের হেলিকপ্টার-চক্কর উষ্কানি ও বাংলাদেশের জঙ্গি মদদদাতাদের দাবীর পরেও সর্ব্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেও পাল্টা আক্রমণ না করে, মায়ানমারের ঢাকাস্থ রাষ্ট্রদূতকে ‘তলব করে’ কড়া প্রতিবাদ জানানো ও “বাংলাদেশের মাটিতে একটা গুলি পড়লে মায়ানমারের নাম পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেবো” ঘোষণা দিয়ে মানুষের মনোবল ও আস্থা সুদৃঢ় রাখার পাশাপাশি যুদ্ধ এড়িয়ে চলা।
(১.খ.১) ২০১৬ সালে বাংলাদেশে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ি ৮৭,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয়, খাবার, চিকিৎসা পায়।
(১.খ.২) বাংলাদেশের জলসীমায় রোহিঙ্গাবাহী ট্রলারগুলিতে পর্যাপ্ত জ্বালানী, খাবার, জরুরী ঔষধ সরবরাহ করা হয়, যাতে তারা পরিস্থিতি অনূকুলে না আসা পর্যন্ত্য ট্রলারে অবস্থান করতে পারে, এদের কেউ কেউ পরে মায়ানমারে ফিরে গেছে, কেউ কেউ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডে ঢুকেছে, কেউ কেউ পরে বাংলাদেশেই ঢুকেছে।
(১.গ) মায়ানমারের হেলিকপ্টার-চক্কর উষ্কানি ও বাংলাদেশের জঙ্গি মদদদাতাদের দাবীর পরেও সর্ব্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেও পাল্টা আক্রমণ না করে, মায়ানমারের ঢাকাস্থ রাষ্ট্রদূতকে ‘তলব করে’ কড়া প্রতিবাদ জানানো ও “বাংলাদেশের মাটিতে একটা গুলি পড়লে মায়ানমারের নাম পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেবো” ঘোষণা দিয়ে মানুষের মনোবল ও আস্থা সুদৃঢ় রাখার পাশাপাশি যুদ্ধ এড়িয়ে চলা।
২. ১লা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত্য নোবেল পুরষ্কারের জন্য শেখ হাসিনার পক্ষে প্রাথমিক প্রস্তাবসমূহ চুড়ান্ত পর্যায়ে জোরালো হচ্ছে যেসব কারনে:
শেখ হাসিনার পক্ষে চুড়ান্ত মনোনয়ন পর্যায়ে মনোনয়ন কমিটির সদস্যদের বিচেনায় নিতে যেসব ফ্যাক্টরগুলি কাজ করছে, সেগুলি হলো:
(২.ক) গত একমাসে বিশ্বের খ্যাতিমান গণমাধ্যম ও বিশ্বের গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রনায়ক ও পন্ডিত ব্যক্তিগণ ‘রোহিঙ্গা জাতি নির্মূলের ঘৃণ্য অপখেলা’ হতে সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো, তাদের আশ্রয়-খাবার-চিকিৎসা-নিরাপত্ত দেয়ার জন্য ও তাদের অধিকার আদায় করার জন্য শেখ হাসিনার মানবিক আচরণ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তাকে ‘মানবতার জননী’, ‘প্রাচ্যের তারকা’ ‘বিশ্ব মানবতার বিবেক’ এমনসব বিশেষণে ও উপাধিতে ভুষিত করেছেন।
(২.খ) নরওয়ের পার্লামেন্টে নোবেল এর মর্যাদা ফিরিয়ে আনা হোক মর্মে তীব্র আবেদনময়ী আলোচনা।
(২.গ) জাতিসংঘের পর্যালোচনা। এসব বিশ্লেষণ করলে কিছুটা অনুমান করা যায়, কেন অতি গোপনীয় বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যেও শান্তিতে নোবেল পুরষ্কারটি বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনাই পেতে চলেছেন- এ কথাটি গণমাধ্যমে ও মানুষের মুখে মুখে উঠে আসছে?
(২.ক) গত একমাসে বিশ্বের খ্যাতিমান গণমাধ্যম ও বিশ্বের গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রনায়ক ও পন্ডিত ব্যক্তিগণ ‘রোহিঙ্গা জাতি নির্মূলের ঘৃণ্য অপখেলা’ হতে সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো, তাদের আশ্রয়-খাবার-চিকিৎসা-নিরাপত্ত দেয়ার জন্য ও তাদের অধিকার আদায় করার জন্য শেখ হাসিনার মানবিক আচরণ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তাকে ‘মানবতার জননী’, ‘প্রাচ্যের তারকা’ ‘বিশ্ব মানবতার বিবেক’ এমনসব বিশেষণে ও উপাধিতে ভুষিত করেছেন।
(২.খ) নরওয়ের পার্লামেন্টে নোবেল এর মর্যাদা ফিরিয়ে আনা হোক মর্মে তীব্র আবেদনময়ী আলোচনা।
(২.গ) জাতিসংঘের পর্যালোচনা। এসব বিশ্লেষণ করলে কিছুটা অনুমান করা যায়, কেন অতি গোপনীয় বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যেও শান্তিতে নোবেল পুরষ্কারটি বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনাই পেতে চলেছেন- এ কথাটি গণমাধ্যমে ও মানুষের মুখে মুখে উঠে আসছে?
৩. নোবেল এর মর্যাদা ফিরিয়ে আনা হোক:
প্রতি বছরই শান্তিতে নোবেল এর চুড়ান্ত মনোনয়নে প্রভাব ফেলে সেপ্টেম্বর মাসে নরওয়ের পার্লামেন্টে বিশ্বশান্তির উপর আলোচনা হতে। যেখানে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নরওয়ের পার্লামেন্টে কারো নাম না উল্লেখ করে দৃঢ় ও স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, “শান্তির নোবেল রক্তাক্ত হয়ে নোবেল এর মর্যাদা হারিয়ে ফেলেছে, আমাদের এমন কাউকে খুঁজতে হবে, যার হাতে শান্তির জন্য নোবেল তুলে দিতে পেরে আমরা নোবেলের মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে পারবো” আর একটি কথা উঠে এসেছে, “আমরা ক্ষুদ্র্র ঋণের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠিত করলাম টেলিনর নামে একটি কোম্পানীকে, এমন ভুল যেনো আর না করি”।
৪. জাতিসংঘে শেখ হাসিনার ২০১২ সাল হতে বিশ্বনেত্রীর আসনটি আরো পোক্ত হয়েছে ২০১৭তে রোহিঙ্গা-সঙ্কট মোকাবলোয় কার্যকর পদক্ষেপের প্রচেষ্টায়:
জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শাষনকালে (১৯৯৬-২০০১) বিশ্বে মানবতা ও মানব-অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে এমন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, “শিশুদের জন্য ‘হ্যাঁ’ বলুন” ঘোষণা দিয়ে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, “এটি ছিলো শেখ হাসিনার বিশ্বনেত্রী আসনে উঠার সিঁড়িতে প্রথম ধাপে পা দেয়া”। এরপর থেকে তিনি আর থেমে নেই, তার মেধা, শ্রম, মানবপ্রেম ও সুচিন্তার সুফল শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়ছে। একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর অবদান আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সেসবের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন।
(৪.ক) ইতমধ্যে তিনি শান্তি, গণতন্ত্র, স্বাস্থ্য ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার, দারিদ্র্য বিমোচন, উন্নয়ন এবং দেশে দেশে, জাতিতে জাতিতে সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য ভূষিত হয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ অসংখ্য পদক ও পুরস্কারে। জাতিসংঘের ৭১তম সাধারন অধিবেশনে শেখ হাসিনা ‘‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন” ও ‘‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড” পুরস্কারে ভুষিত হন। এর আগেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শেখ হাসিনার সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে যুগান্তকারী উদ্যোগের জন্য “International Telecommunication Union (ITU) - ICTs in Sustainable Development Award” প্রদান করা হয়।
(৪.খ) মায়ানমার সরকারের ভয়াবহ নির্যাতনে আশ্রয়হীন ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বেই তাঁর নাম আলোচিত হচ্ছে ‘‘বিশ্ব মানবতার বিবেক’’ হিসেবে। জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাঁর এই মানবিক দৃষ্টান্তের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সবাই; প্রত্যেক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে সামনাসামনি দাঁড়িয়ে একটু অভিভাদন জানাতে, একটু কথা বলতে আগ্রহান্বিত ও উন্মুখ হয়েছিলেন, যা গণমাধ্যমের কল্যাণে তাদের বিণীত ভঙ্গিমার ছবি ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজে প্রকাশ পেয়েছে, এর মধ্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যেনো ছোট শিশুটি বারবার মায়ের পেছনে পেছনে ঘুরঘুর করছে, আর মা শিশু সন্তানের সব জিজ্ঞাসার জবাব দিচ্ছেন, এমন ছবিগুলি ব্যাপকভাবে আবেদন সৃষ্টি করে মানুষের মনে, যাতে শেখ হাসিনা আজ বিশ্বের মানুষের মননে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন।
(৪.গ) আজ শুধু সুইডেন ও নরওয়ে নয়, গোটা ইউরোপ জুড়ে যুদ্ধ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের হিংস্র ছোবলের শিকার শরণার্থী সঙ্কট মানুষের মনে তীব্র উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়েছে, মানুষ এ অবস্থা হতে মুক্তি চায়, পরিত্রাণ চায়, স্থায়ী সমাধান চায়। মানুষ আলফ্রেড নোবেল এর মহান উদ্দেশ্যের কার্যকর বাস্তবায়ন চায়। এ প্রসঙ্গে আলফ্রেড নোবেল ও তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি হতে নোবেল পুরষ্কার সম্পর্কে একটু ধারণা নিলে তরুণদের বিষয়টা উপলব্ধি করতে সহজ হবে। আলফ্রেড নোবেল ২১শে অক্টোবর ১৮৩৩ সালে সুইডেনের স্টকহোমে একটি প্রকৌশল পরিবারে জন্ম নেন। রসায়নবিদ, প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক (আবিষ্কারক) আলফ্রেড নোবেল ১৮৯৪ সালে একটি বফর লোহা ও ইস্পাত কারখানা কেনেন, পরবর্তীতে যেটি অন্যতম অস্ত্র তৈরির কারখানায় পরিণত হয়। তিনি ব্যালিস্টিক উদ্ভাবন করেন, যা বিশ্বব্যাপী ধোঁয়াবিহীন সামরিক বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাঁর ৩৫৫টি উদ্ভাবনের মাধ্যমে জীবদ্দশায় প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হন যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘ডিনামাইট’। ১৮৮৮ সালে তিনি একটি ফরাসি পত্রিকায় ‘এ মার্চেন্ট অব ডেথ হু ডেড’ শিরোনামে প্রকাশিত যুদ্ধে মৃতদের তালিকা দেখে বিস্মিত হন। নোবেলের ভাই ‘লুডভিগ’ও ঐ যুদ্ধে মারা যায়, এই নিবন্ধটি তাঁকে ভাবিয়ে তোলে এবং খুব সহজেই বুঝতে পারেন যে, ইতিহাসে তিনি কিভাবে স্মরণীয় থাকতে চান। যা তাঁকে তার উইল পরিবর্তন করতে অনুপ্রাণিত করে। নোবেল তার জীবদ্দশায় অনেকগুলো উইল লিখেছিলেন। সর্বশেষ উইল লেখা হয়েছিল তার মৃত্যুর মাত্র এক বছর আগে ২৭শে নভেম্বর ১৮৯৫ সালে প্যারিসের সুইডিশ-নরওয়ে ক্লাবে। বিস্ময় ছড়িয়ে দিতে, নোবেল তার সর্বশেষ উইলে উল্লেখ করেন যে তার সকল সম্পদ পুরস্কার আকারে দেয়া হবে যারা পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্যে ‘বৃহত্তর মানবতার স্বার্থে কাজ করবেন’। নোবেল তার মোট সম্পদের (৩১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা) ৯৪ শতাংশ এই পাঁচটি পুরস্কারের জন্য উইল করেন। ২৬শে এপ্রিল ১৮৯৭ নরওয়ে থেকে এই উইল অনুমোদন করা হয়। নোবেলের উইলের সমন্বয়কারী ‘রগনার সোলম্যান’ ও ‘রুডলফ লিলজেকুইস্ট’ এ দুজন উদ্যোগ নিয়ে ‘নোবেল ফাউন্ডেশন’ তৈরি করেন। যে ফাউন্ডেশনের কাজ তার সম্পদের রক্ষণাবেক্ষন ও নোবেল পুরস্কার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। ১০ই ডিসেম্বর ১৮৯৬ সালে আলফ্রেড নোবেল ৬৩ বছর স্যান রিমো, ইতালিতে মৃত্যুবরন করেন। আজ শুধু সুইডেন, নরওয়ে, ইতালি বা ইউরোপ নয়, সমগ্র বিশ্বেই উচ্চারিত হচ্ছে যদি নোবেল লোরিয়েটদের কোন ভুমিকা না থাকে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায়, তাহলে নোবেল পুরষ্কারটি কেন? কাদের দেয়া হয়, এই নোবেল পুরষ্কার?
(৪.ঘ) অন্যান্য ক্ষেত্রে নোবেল পুরষ্কারটির বিষয় জড়িত থাকে এক বা একাধিক ব্যক্তি এবং/বা প্রতিষ্ঠানের আবিষ্কৃত গবেষণা বিষয়ের গুরুত্ব ও বিশ্বে মানবতার কল্যাণে ভবিষ্যতে কতটুকু অবদান রাখবে সে বিবেচনায়, এবং এ নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক ও গবেষণা পর্যালোচনা ভিত্তিক মূল্যায়ণ হয়। কিন্তু, শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার প্রদানের ক্ষেত্রে আরো অনেক বিষয়, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানটির অতীত ভুমিকা, ভবিষ্যতে তিনি বিশ্বে মানবতার পক্ষে কি ভুমিকা রাখতে পারবেন, সেসব বিষয়ে বিশ্বের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সেরা ব্যক্তিত্ব, পূর্ববর্তী নোবেল লোরিয়েট ও বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্ণধারদের মতামত গুরুত্ব পায়। ১লা অক্টোবরের মধ্যে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মতামত চেয়েছিলো নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য গঠিত কমিটি। বিভিন্নভাবে এসব মতামতের কিছু প্রকাশ হয়ে গেছে, জানা গেছে, বিশেষজ্ঞ প্যানেলের চারজন শেখ হাসিনার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনজন এই পুরস্কার যৌথভাবে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০১৭, শেখ হাসিনা এবং গ্রীসের চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী পদে বিজয়ী অ্যাঙ্গেলা মেরকেলকে যৌথভাবে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন একাধিক শিক্ষাবিদ এবং নোবেল জয়ী। এরা সবাই নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য।
(৪.ঘ.১) ইউরোপীয় পিস অ্যান্ড রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের (EUPRA) দ্যানিয়েলা ইরিরা চিঠিতে বলেছেন, “এই মুহূর্তে শরণার্থী সমস্যা বিশ্বশান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। জার্মান চ্যান্সেলর নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ঝুঁকি নিয়ে জার্মানির দরজা উন্মুক্ত করেছেন। দেশে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই শরণার্থী প্রশ্নে তিনি মানবতাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ দারিদ্র্য থেকে উঠে আসার সংগ্রামরত একটি দেশ। নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে প্রমাণ করেছেন, ‘মানবতা’র শক্তি কত বড়। শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন মানবিক হবার পূর্বশর্ত ধনী হওয়া নয়। শেখ হাসিনা সীমানা সীল করতে পারতেন, যেমনটি ভারত করেছে। এটা তাই শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত। তিনি বাধ্য হয়ে এটা করেননি, মানবিক বোধের আবেদন হতে করেছেন। জার্মানি এবং বাংলাদেশের মেলবন্ধন ঘটেছে শরণার্থী ইস্যুতে। তাই আমি দুজনকেই বিশ্বশান্তির দূত মনে করি। দুজনই এই পুরস্কারের জন্য যোগ্য। এটা প্রাচ্য ও প্রাশ্চাত্যের এক যুগলবন্দী হবে, যা বিশ্বশান্তিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।“
(৪.ঘ.২) ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর নন ভায়োলেন্ট কনফ্লিক্ট (ICNCC) এর মেরি এলিজাবেথ কিং লিখেছেন, “এই মুহূর্তে বিশ্বে দুজন বিশ্বমাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। দুজনই শান্তির জন্য অসম্ভব ঝুঁকি নিয়েছেন। দুজনই যুদ্ধের বিরুদ্ধ্বে মানবতার জয়গান গেয়েছেন। এখানে একজনকে বাদ দিয়ে আরেকজনকে পুরস্কার দেওয়ার মানে হলো, একজনের কৃতিত্বকে ছোট করা। এখানে বড় কৃতিত্ব আর ছোট কৃতিত্ব বলে কথা নেই। দুজনেরই লক্ষ্য শান্তিময় এক বিশ্ব গড়ে তোলা। দুজনকে একসঙ্গে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিলে যে বার্তাটি জোর দেওয়া যাবে তা হলো শান্তির কোনো জাতিধর্ম নেই, শান্তির কোনো ধনী-গরীব নেই, শান্তির কোনো দেশ নেই। দুই নেতাকে দিয়ে বিশ্বকে এক সুতোয় গাঁথার ছবিটি কেন আমরা নষ্ট করব।“
(৪.ঘ.২) ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর নন ভায়োলেন্ট কনফ্লিক্ট (ICNCC) এর মেরি এলিজাবেথ কিং লিখেছেন, “এই মুহূর্তে বিশ্বে দুজন বিশ্বমাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। দুজনই শান্তির জন্য অসম্ভব ঝুঁকি নিয়েছেন। দুজনই যুদ্ধের বিরুদ্ধ্বে মানবতার জয়গান গেয়েছেন। এখানে একজনকে বাদ দিয়ে আরেকজনকে পুরস্কার দেওয়ার মানে হলো, একজনের কৃতিত্বকে ছোট করা। এখানে বড় কৃতিত্ব আর ছোট কৃতিত্ব বলে কথা নেই। দুজনেরই লক্ষ্য শান্তিময় এক বিশ্ব গড়ে তোলা। দুজনকে একসঙ্গে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিলে যে বার্তাটি জোর দেওয়া যাবে তা হলো শান্তির কোনো জাতিধর্ম নেই, শান্তির কোনো ধনী-গরীব নেই, শান্তির কোনো দেশ নেই। দুই নেতাকে দিয়ে বিশ্বকে এক সুতোয় গাঁথার ছবিটি কেন আমরা নষ্ট করব।“
(৪.ঘ.৩) ইউনিভার্সিটি অব অসলোর রেক্টর সেভিন স্টোলেন লিখেছেন, ”নোবেলের উইলের সঙ্গে সামাঞ্জস্যপূর্ণ প্রার্থী পাওয়া গেল অনেক বছর পর। অ্যাঙ্গেলা মেরকেল যদি সিরিয়ার শরণার্থীদের না নিতেন তাহলে কি হত, তারা যুদ্ধ করতো। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হত তত বাড়তো মানুষের লাশ। একই ভাবে শেখ হাসিনা যদি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের না নিতেন তাহলেও যুদ্ধ হত। এই যুদ্ধে শুধু আমাদের মানবিক বির্পযয় দেখতে হত। তাই, আমি কোনো অবদানকেই খাটো করতে চাই না। তাঁদের অন্য বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে চাই। শান্তির জন্য এরা যেটা করেছে, সেটাই বিশ্বের সবার করা উচিত। বহুবার নোবেল পুরস্কার যৌথভাবে দেওয়া হয়েছে। আমার মনে হয়, সারা বিশ্বই খুশি হবে, দুজন সত্যিকারের মানবতাবাদী মানুষের হাতে এই পুরস্কার তুলে দিলে।“
(৪.ঙ) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মানবিক দিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, খাবার, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা দিয়েছেন। সাথে সাথে দৃঢ়ভাবে মায়ানমারের প্রতি দ্ব্যর্থহীণ ভাষায়, হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছেন, “মিয়ানমার সরকারকে মনে রাখতে হবে, সকল রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে।“ একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের জন্যও তিনি কুটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতিসংঘ সাধারন পরিষদে ওনার বক্তব্যও তাই প্রমান করে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে মিয়ানমারের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। সেগুলো হলো: প্রথমত, অনতিবিলম্বে এবং চিরতরে মিয়ানমারে সহিংসতা ও ‘জাতিগত নিধন’ নিঃশর্তে বন্ধ করা; দ্বিতীয়ত, অনতিবিলম্বে মিয়ানমারে জাতিসংঘের মহাসচিবের নিজস্ব একটি অনুসন্ধানী দল প্রেরণ করা; তৃতীয়ত, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান এবং এ লক্ষ্যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সুরক্ষা বলয় (safe zones) গড়ে তোলা; চতুর্থত, রাখাইন রাজ্য হতে জোরপূর্বক বিতাড়িত সকল রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে তাদের নিজ ঘরবাড়িতে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা; পঞ্চমত, কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার নিঃশর্ত, পূর্ণ এবং দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। লক্ষ্য করা গেছে যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই গঠনমূলক ও উদাত্ত আহবাণ, যা তিনি সমগ্র বিশ্ববাসীকে নিয়ে জাতিসংঘের নেতৃত্বে করতে চান, তার এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর জাতিসংঘ মহাসচিব সহ সকল অংশগ্রহণকারি শেখ হাসিনার আসনের সামনে এসে তাকে অভিভাদন জানান।
(৪.চ) রোহিঙ্গা-সঙ্কট মোকাবেলার দিকনির্দেশনার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় ওনার জিরো টলারেন্স অবস্থান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নেই। আমি নিজে বেশ কয়েকবার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছি। সে হিসেবে সন্ত্রাসের শিকার মানুষের প্রতি সহানুভূতি জানাই। ধর্মের নামে যেকোনো সহিংস জঙ্গিবাদের নিন্দা জানাচ্ছি, সহিংস জঙ্গিবাদ বিস্তার রোধে তৃণমূল পর্যায়ে আমরা পরিবার, নারী, যুবসমাজ, গণমাধ্যম এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করেছি।“ বৈশ্বিক এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘে উত্থাপিত সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব হচ্ছে- প্রথমত: সন্ত্রাসীদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে; দ্বিতীয়ত: সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে; এবং তৃতীয়ত: শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক বিবাদ মীমাংসা করতে হবে। তাঁর বিশ্বের চলমান সঙ্কটে সংক্ষিপ্ত ও উপযুক্ত প্রস্তাবে সবাই বিমোহিত হন।
৫. শেখ হাসিনার সাথে বাংলাদেশকে যুক্ত করে যৌথভাবে নোবেল দেয়ার প্রস্তাব:
শরণার্থী প্রসঙ্গ যখন সামনে এসেছে তখন, নরওয়ের কয়েকজন শিক্ষাবিদ শেখ হাসিনার সঙ্গে বাংলাদেশকেও যুক্ত করার প্রস্তাব করেছেন। আজ পর্যন্ত কোনো একক দেশ নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০১২ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পায়। নরওয়ের পার্লামেন্টের একজন সদস্য তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের মানুষের আতিথ্য, শান্তির প্রতি ভালবাসা ও মানবিকতাকে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
৬. শেখ হাসিনার নোবেল প্রাপ্তি বিষয়ে আশাবাদ:
নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য শেখ হাসিনার জন্য যে বিবেচনা সার-সংক্ষেপ তৈরি করা হয়েছে, তাতে শুধু জঙ্গিবাদ ও রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ নয় বরং তার দীর্ঘ শান্তিবাদী রাজনীতি এবং মানবতার ধারাবাহিকতাকে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৮১ সাল থেকে বাংলাদেশে দীর্ঘ গণতন্ত্রের সংগ্রামে তিনি নেতৃত্ব দেন। যে সংগ্রাম ছিল মূলত রাজনীতি সামরিকরণের বিরুদ্ধে। ১৯৯৭ সালে তার পার্বত্য শান্তি চুক্তি এবং সমুদ্র সীমার শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তিও তাঁর পুরস্কার প্রাপ্তির যৌক্তিকতার জন্য উপস্থাপিত হয়েছে।
মো: মাহমুদ হাসান (ভূতপূর্ব কলেজ অধ্যক্ষ ও সমাজ গবেষণা কর্মী), ঢাকা, তারিখ-০৫.১০.২০১৭, সময়-ভোর ০৫.১০ মিনিট।



0 মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ…আপনার মতামত প্রদান করার জন্য।