ভারতের ধর্ষক ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের পালিত কন্যা হানিপ্রীত ইনসানকে গ্রেপ্তার করেছে হরিয়ানা পুলিশ।
ধর্ষণ মামলায় রাম রহিমের সাজা ঘোষণার পর থেকেই লাপাত্তা ছিলেন হানিপ্রীত। গত এক মাস ধরে পুলিশ তাকে খুঁজছিল।
পুলিশের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, মঙ্গলবার চণ্ডীগড়রের কাছে একটি মহাসড়ক থেকে পুলিশ হানিপ্রীতকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছে আরেক নারীও।
হানিপ্রীত যেন হরিয়ানা ছাড়তে না পারেন সে জন্য গত মাসের শুরুতে বিমানবন্দরসহ সব জায়গায় পুলিশ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছিল। আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে হানিপ্রীত তার পালক বাবা রাম রহিমকে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন বলে ধারণা পুলিশের।
এছাড়াও, রাম রহিমের অনেক বেআইনি কাজে সাহায্য করা, পঞ্চকুলা ও সিরসায় বিশৃঙ্খলায় মদদ দেওয়া-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ সমস্ত অভিযোগেই হানিপ্রীতকে ধরার জন্য তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল পুলিশ।
এনডিটিভি জানায়, শনিবার সকাল থেকে স্থানীয় কয়েকটি টিভি চ্যানেলে হানিপ্রীতকে দেখা গেছে। মঙ্গলবারই আত্মসমর্পণ করতে পারেন বলেও ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আভাস দিয়েছিলেন হানিপ্রীত। কিন্তু তার আগেই তিনি গ্রেপ্তার হলেন।
গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে নিউজ টোয়েন্টিফোর চ্যানেলকে হানিপ্রীত বলেছিলেন, “আমার ও বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ শুনতে শুনতে শুনতে আমি বিধ্বস্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছি। যখন বাবা কারাগারে চলে গেলেন, আমার পৃথিবী ধসে পড়েছে।”
ভারতের স্বঘোষিত আধ্যাত্মিক গুরু রাম রহিম সিংয়ের বিরুদ্ধে তার দুই নারী ভক্ত ধর্ষণের অভিযোগ আনার পর গত ২৫ অগাস্ট চণ্ডিগড়ের পাঁচকুলার একটি বিশেষ আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে।
রায়ের পর রাজ্য ছুড়ে রাম রহিমের ভক্তরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, নিহত হয় অন্তত ৩৬ জন।
দুই মামলার বিচারে ডেরা সাচ্চা সওদা প্রধানের ১০ বছরে করে মোট ২০ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হয়। বর্তমানে হরিয়ানার রোহতাকের কাছে সুনারিয়া কারাগারে সাজা ভোগ করছেন রাম রহিম(৫০)।
দোষী সাব্যস্ত করার পর পাঁচকুলা বিশেষ আদালত থেকে রাম রহিমকে হেলিকপ্টারে করে রোহতাক কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন হানিপ্রীত। তারপর থেকেই তিনি লাপাত্তা হয়ে গিয়েছিলেন।
শনিবার টেলিভিশনে হানিপ্রীত বলেন, “আপনি কি আমাকে একটি কথাও বলতে শুনেছেন, তাহলে কোথায় আমি জনগণকে উস্কানি দিচ্ছি? বাবা সন্ধ্যায় ফিরে আসবেন এই আশা নিয়ে আমি সেদিন সেখানে (পাঁচকুলা আদালতে) গিয়েছিলাম। কিন্তু যখন তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হল আমি একদম ভেঙে পড়েছিলাম। আমি তখন অন্য কিছুর পরিকল্পনা কিভাবে করতে পারি? আমি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলাম।”
রাম রহিম ও হানিপ্রীতের মধ্যে বাবা-মেয়ের সম্পর্ক নয় বরং দৈহিক সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হানিপ্রীতের সাবেক স্বামী বিশ্বাস গুপ্তা।
এ বিষয়ে হানিপ্রীত বলেন, “বাবা-মেয়ের মত এত পবিত্র একটি সম্পর্ক নিয়ে কিভাবে কেউ সন্দেহ প্রকাশ করতে পারে, আমি তা বুঝতে পারছি না। তাদের কাছে কি প্রমাণ আছে? দয়া করে এ ধরনের মানুষকে বিশ্বাস করবেন না।”
রাম রহিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ভুয়া মন্তব্য করে হানিপ্রীত আরও বলেন, “বাবাজি কোটি কোটি নারী ও মেয়েকে আত্মনির্ভরশীল করেছেন। আপনারা ওই দুই নারীর কথা বিশ্বাস করবেন? নাকি লাখ লাখ নারীর কথা বিশ্বাস করবেন?”


0 মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ…আপনার মতামত প্রদান করার জন্য।